সিলেট নগরীতে ৫ তলা ভবন থেকে পড়ে রাবিদ আহমদ নাজিম (২৭) নামক তরুণের মৃত্যু নিয়ে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। এটি হত্যা না আত্মহত্যা- পুলিশ এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি। সন্দেহভাজন এক ছেলে ও এক মেয়ে এবং সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

সোমবার (৭ জুন) সকালে নগরীর কাজিটুলার ঊঁচাসড়কস্থ চৌধুরী ভিলা নামক ৫ তলা বাসার নিচ থেকে পড়ে রাবিদ আহমদ নাজিম গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে দুপুর দেড়টার দিকে তার মৃত্যু হয়। নাজিম সিলেটের শাহপরাণ থানার পিরেরবাজার এলাকার আটগাও কেউয়া গ্রামের নুর মিয়ার ছেলে।

নাজিমের পরিবারের সদস্যরা জানান, সোমবার সকালে নাজিমের বাবাকে কাজিটুলা থেকে কে বা কারা ফোন করে বলেন- নাজিম পাঁচতলা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছে। তাকে সিলেট এম জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। খবর পেয়ে নাজিমের পরিবারের সদস্যরা ওসমানী হাসপাতালে গিয়ে তাকে মৃত দেখতে পান।

এর আগে রোববার রাতে কে বা কারা নাজিমকে ফোন করে কাজিটুলায় নিয়ে আসে বলে পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ। তারা বলেন, রাতে আর নাজিম বাড়ি ফেরেনি, তার ফোনও বন্ধ ছিলো।

এদিকে, নাজিম ঊঁচাসড়কস্থ চৌধুরী ভিলা নামক ৫ তলা বাসার পঞ্চম তলার বি/৫ ফ্ল্যাটটি খালাতো ভাই-বোন পরিচয়ে এক ছেলে ও মেয়ের সঙ্গে বাসা ভাড়া নেন। সেখানে তিনি প্রায়ই রাত কাঁটাতেন। মৃত্যুর পর তার থাকার কক্ষ থেকে নানা রকমের মাদকদ্রব্য ও সেবনের সরঞ্জামাদি উদ্ধার করেছে পুলিশ। নাজিম যাদের সঙ্গে ভাড়া থাকতেন সেই ছেলে ও মেয়ে তার খালাতো ভাই-বোনও নন বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। এতে নাজিমের মৃত্যু নিয়ে রহস্য আরও ঘণীভূত হয়েছে।

তবে পুলিশ এই কথিত খালাতো ভাই-বোন ও বাসার অন্যান্য লোকদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এ রিপোর্ট লেখা (বিকাল ৪টা) পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস.এম আবু ফরহাদের নেতৃত্বে কোতোয়ালি থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে।

নাজিমের চাচা আলাউদ্দিন বলেন, এই বাসায় আমার ভাতিজা ভাড়া থাকতো সেটি জানতাম না। নাজিম বিবাহিত, তার দুটি সন্তানও রয়েছে। বিবাহিত জীবনে সে অসুখি ছিলো না। কী কারণে আমার ভাতিজাকে মৃত্যুবরণ করতে হলো তা খতিয়ে দেখতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।

এ ঘটনা খুন হলে খুনিদের শাস্তি দাবি করেন নাজিমের চাচা আলাউদ্দিন।

সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস.এম আবু ফরহাদের বরাত দিয়ে এসএমপি’র অতিরিক্ত উপ-কমিশনার বি এম আশরাফ উল্যাহ তাহের সিলেটভিউ-কে বলেন, ওই তরুণ ৫ তলা থেকে পড়ার আলামত পাওয়া গেছে। তবে এটি হত্যা না আত্মহত্যা তা এখনও স্পষ্ট নয়। নিজামের থাকার কক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য ও সেবনের সরঞ্জামাদি উদ্ধার করেছে পুলিশ।

যাদের সঙ্গে সাবলেট থাকতেন নাজিম- সেই ছেলে ও মেয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।