সিলেটের সংবাদ

সিলেটের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সোয়েব বাসিতকে মিথ্যা ও ষরযন্ত্রমূলক মামলা দিয়ে হয়রানির চেষ্টা করা হচ্ছে।

স্টাফ রিপোর্টার : সিলেটের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সোয়েব বাসিতকে মিথ্যা ও ষরযন্ত্রমূলক মামলা দিয়ে হয়রানির চেষ্টা করা হচ্ছে। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৩নং ওয়ার্ডের বহুল বিতর্কিত ও সমালোচিত কাউন্সিলর এ.কে লায়েক এই মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন বলে জানা গেছে।
জানা যায়, গত ২৩ এপ্রিল রাত সাড়ে ৮ টার দিকে কে বা কারা কাউন্সিলর লায়েকের অফিসের সাউনবোর্ড ও সার্টার ভাংচুর করে। এ ঘটনায় ২৪ এপ্রিল লায়েক সাংবাদিক সোয়েব বাসিতকে প্রদান আসামি করে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত ১৫/২০ জনসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
এদিকে, এলাকাবাসির অনেকের সাথে আলাপ করে জানা গেছে কাউন্সিলর লায়েক তার ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করতে না পেরে এবং তার বিভিন্ন অপকর্মের প্রতিবাদকারী লোকজনের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসা বসত হয়ে এই মামলায় বেশিরবাগ মানুষ কে আসামি করেছেন। যারা অনেকেই ঘটনাস্থলে ছিলেন না কিংবা হামলার ঘটনা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছিলেন। এলাকাবাসি আরো জানিয়েছেন এই হামলার সাথে রাজনৈতিক বা সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন সংক্রান্ত কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। এটি এলাকার মসজিদ, ক্লাব ও পঞ্চায়েত কমিটির বিরোধ কে কেন্দ্র করে ঘটেছে। কারণ কাউন্সিলর হওয়ার পর থেকে লায়েক মুন্সিপাড়া জামে মসজিদ, মুন্সিপাড়া ইয়ং ব্রাদার্স ক্লাব ও পঞ্চায়েত কমিটিকে কুক্ষিগত করে রেখেছেন। তিনি তার অনূগত লোকজনকে দিয়েই এসব পরিচালনা করছেন এবং হিসেব নিকাশ গড়মিল সহ টাকা পয়সা লোপাট করছেন। এলাকার যুবসমাজ ও মুরব্বিদের একটি অংশ এ ব্যাপারে প্রতিবাদি হয়ে উঠলে লায়েক তাদের উপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। যে কারণে ফন্দি আটতে থাকেন কি করে তাদের শায়েস্তা করা যায়। ঘটনার দিন লায়েক রাত ৭ টার দিকে ৩০/৩৫ জন সন্ত্রাশী তার বাসায় জড়ো করেন এবং এক পর্যায়ে এলাকার প্রতিবাদি যুবকদের উপর হামলার চেষ্টা করেন। এর কিছুক্ষণ পর লায়েকের ঘরে পূর্ব থেকে অবস্থান নেয়া ৮/১০ জন যুবক আকস্বিক বেরিয়ে এসে শ্লোগান দিয়ে তার অফিসের সাইনবোর্ড ও সার্টার ভাংচুর করে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে। কিন্তু লায়েক এ ঘটনাকে রাজনৈতিক ও সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন কাজে বাধা এ বিষয়টি কৌশলে সামনে এনে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করেন। তিনি এ ঘটনা কে পুজি করে সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, আইনজীবি ও সরকারি কর্মচারীসহ এলাকার নিরীহ ছাত্র ও যুবকদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানির চেষ্টা করছেন। এলাকাবাসির অনেকের সাথে আলাপকালে লায়েক ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর ভয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, করোনার প্রথম দফায় বর্তমান শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামীলীগ সরকার যখন সাধারণ মানুষের জন্য বিপুল পরিমাণ ত্রাণ সামগ্রী বরাদ্ধ করেছিলেন এরই অংশ হিসেবে সিলেট সিটি কর্পোরেশন সরকার থেকে বিপুল পরিমাণ ত্রাণ সামগ্রী পায়। ঐ সময় লায়েক অসহায় দুস্থদের ভূয়া তালিকা তৈরি করে সিটি কর্পোরেশন থেকে জোর পূর্বক ১২৫ বস্তা চাল নিয়ে আসেন। যা পরবর্তীতে সিটি কর্পোরেশন ও আইন শৃঙ্ঘলা বাহিনীর সহযোগিতায় তার বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়। যা সে সময়ে সিলেটের স্থানিয়সহ জাতিয় সবগুলো প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রকাশিত হয়। লায়েকের জোরপূর্বক চাল নিয়ে আসার এ ঘটনায় চরম ক্ষুদ্ধ হন সিলেট-১ আসন থেকে নির্বাচিত জাতিয় সংসদ সদস্য ও মাননীয় পররাষ্ট মন্ত্রী ড. এ.কে আব্দুল মোমেন। তিনি তাৎক্ষনিক এক ভিডিও বার্তায় ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এ ব্যাপারে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। এ ঘটনার কয়েকদিনের মাথায় সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগ গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে লায়েক কে আওয়ামীলীগ থেকে বহিষ্কার করে এবং বলা হয় লায়েক কখনই আওয়ামীলীগ ও এর অঙ্গ এবং সহযোগি সংগঠনের কখনই কোন পর্যায়ের নেতা বা কর্মি ছিল না এবং তার সাথে এসব সংগঠনের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। স্থানিয়রা জানিয়েছেন, লায়েক এসব ঘটনায় এলাকার প্রতিবাদি যুবকদের উপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। তার ধারণা তার নানা অপকর্মের ঘটনা সর্বমহলে প্রকাশের পেছনে এলাকার এসব নিরীহ প্রতিবাদি লোকজনের হাত রয়েছে। এ কারণে তিনি সুযোগ বুঝে কৌশলে তার অফিসের সাইনবোর্ড ও সার্টার ভাংচুরের নাটক সাজিয়ে এ মামলায় তাদের ফাসিয়ে দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে সাংবাদিক সোয়েব বাসিত এ প্রতিবেদকে জানিয়েছেন তার বাসা মুন্সিপাড়া ১৩ এবং কাউন্সিলর লায়েকের বাসা ও অফিস ১৬। তিনি ঘটনার দিন লায়েকের সার্টার ও সাইনবোর্ড ভাংচুর এর খবর পেয়ে তার মোটর সাইকেল পার্কিং করে শারীরিক নিরাপত্তার স্বার্থে হেলমেট পরিহিত অবস্থায় একজন সাংবাদিক হিসেবে সংবাদ সংগ্রহের লক্ষে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। কিন্ত পরে জানতে পারেন লায়েক সিসি ক্যামেরায় ধারণকৃত হেলমেট পরিহিত তার ছবিকে পুজি করে সাইনবোর্ড ও সার্টার ভাঙ্গার ঘটনায় তাকেও এ মামলায় আসামি করেছেন। তিনি বলেন এ মামলা লায়েকের প্রতিহিংসা পরায়ন চরিত্রের চরম বহিপ্রকাশ। তিনি বলেন এ কারণে ধরে নেয়া যায় মামলাটি সম্পূর্ণ উদ্যেশ্যমূলক এবং হয়রানির জন্য করা হয়েছে। ভবিষ্যতে কেউ যাতে লায়েকের কোন অপকর্মের বিরুদ্ধে কথা বলতে না পারে।
এদিকে, এ ঘটনায় বহুল বিতর্কিত কাউন্সিলর লায়েক এলাকার বিশিষ্ট মুরব্বি ও মুন্সিপাড়া পঞ্চায়েত ও মসজিদ কমিটির অন্যতম সদস্য শফিক মিয়া, আল-হামরা দোকান মালিক ব্যবসায়ি সমিতির কোষাধ্যক্ষ ইরশাদ আলী, সরকারি কর্মচারী জাকারিয়া মাসুদ খোকন, ডেকোরেটার্স ব্যবসায়ী ও শিক্ষানবিশ আইনজীবি এম এ লাহিন এবং এড. আরিফসহ এলাকার নিরীহ ছাত্র ও যুবকদের এ মামলায় আসামি করে হয়রানির চেষ্টা করছেন বলে তারা সকলে জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য সিলেট সিটি কর্পোরেশনের আরো ২৬টি ওয়ার্ড ও ৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সম্মানিত কাউন্সিলরবৃন্দ রয়েছেন। নির্বাচিত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত তাদের বাসা বাড়ি বা অফিসে হামলা বা ভাংচুর হয়নি। কাউকে নিয়ে কোন বিতর্ক কিংবা সমালোচনা নেই। কিন্তু লায়েকের এখানে কেন এসব ঘটনা ঘটে নিশ্চয় এর পেছনে রহস্য রয়েছে।
এ ব্যাপারে কাউন্সিলর লায়েকের বক্তব্য জানতে তার মঠোফনে যোগাযোগ করা হলে মোবাইল বদ্ধ থাকায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।

এ জাতীয় আরও সংবাদ

ভোলাগঞ্জে পাথর উত্তোলনে বাধা নেই : হাইকোর্ট

todaysylhet24

মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের মাঝে হেল্পিং হ্যান্ডস চ্যারিটি সিলেটের শীতবস্ত্র ও মাস্ক বিতরণ

todaysylhet24

সিলেট-তামাবিল সড়ক সংস্কার: সিসি ঢালাইয়ের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ফাটল

Jamalganjnews24

Leave a Comment