জাতীয়

র‌্যাবের হটলাইনে সাহেদের বিরুদ্ধে সিলেটসহ দেশ-বিদেশের দেড় শ গুরুতর অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক :: র‌্যাবের হটলাইনে রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান, ‘সিলেটী জামাই’ প্রতারক সাহেদের বিরুদ্ধে কমপক্ষে দেড়শ অভিযোগ জমা পড়েছে। এগুলোর অধিকাংশই চিকিৎসার নামে প্রতারণা এবং পাওনা টাকা ফেরত না দেয়ার অভিযোগ। সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ জেলার ছাতকের একজনের কাছ থেকেই এক কোটি ৪৯ লাখ টাকা মেরে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে সাহেদের বিরুদ্ধে। এমন প্রায় ৫০টির মতো প্রতারণার অভিযোগে মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, রিজেন্টের সাহেদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জের ছাতক, মৌলভীবাজারের কুলাউড়া, ঢাকার পূর্বাচল, গাবতলী, শাহজাহানপুর, বনানী ডিওএইচএস, খিলগাঁও, কলাবাগান, মিরপুর, উত্তরা, খিলক্ষেত,  লক্ষ্মীপুর, ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, বগুড়া, সৌদি আরব, ইতালি, যুক্তরাজ্য থেকেও অভিযোগ জানিয়েছেন অনেক ভুক্তভোগী।

তাদের অনেকেই বলেছেন, বিদেশে পাঠানোর নাম করে সাহেদ তাদের কাছ থেকে টাকা নেন। কিন্তু বিদেশে পাঠাতে পারেননি, টাকাও ফেরত দেননি। সাহেদের বিরুদ্ধে ছাতকের একজনের কাছ থেকে এক কোটি ৪৯ লাখ টাকা নেয়ার অভিযোগ এসেছে র‌্যাবের কাছে। এটাই সাহেদের কাছে সর্বোচ্চ পাওনা। এছাড়া সরকারি চাকরি ও বদলির প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ, হয়রানি, রিজেন্ট হাসপাতালে অতিরিক্ত বিল আদায়ের অভিযোগ তো আছেই।

র‌্যাবের লিগ্যাল ও মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে গণামাধ্যমকে বলেন, সরকারি চাকরি দেয়া, ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে শোধ না করা, বদলির তদবির করে টাকা আদায়, মালামাল সরবরাহকারীদের পাওনা পরিশোধ না করা, ভ্যানের ভুয়া লাইসেন্স দিয়ে টাকা আদায়, বিআরটিএ’র ভুয়া অনুমতিপত্র সরবরাহের মতো অভিযোগ এসেছে সাহেদের বিরুদ্ধে। বেতন না পাওয়ার অভিযোগ করে প্রতিকার চেয়েছেন চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীরাও।

আশিক বিল্লাহ জানান, ‘আমাদের হটলাইনে অনেকে অভিযোগ করেছেন, ই-মেইলেও অভিযোগ আসছে। প্রাপ্ত অভিযোগসমূহ আমরা আমলে নিয়েছি। র‌্যাবের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগীদের যথাযথ আইনি পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।’

উল্লেখ্য, গত ৬ জুলাই নানা অনিয়ম, প্রতারণা, সরকারের সঙ্গে চুক্তি ভঙ্গ এবং করোনা পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট ও সার্টিফিকেট দেয়া, রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেয়ার অভিযোগে রিজেন্ট গ্রুপের দুটি হাসপাতালে অভিযান চালায় র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে নানা অনিয়ম ধরা পড়ে।

পরদিন (৭ জুলাই) রিজেন্ট গ্রুপের মূল কার্যালয় এবং রাজধানীর উত্তরা ও মিরপুরের দুটি হাসপাতাল সিলগালা করে দেয়া হয়। প্রতারণার মাধ্যমে ১০ হাজারেরও বেশি করোনা পরীক্ষার ভুয়া সার্টিফিকেট দেয় রিজেন্ট হাসপাতাল।

নয়দিন পর ১৫ জুলাই ভোরে র‌্যাবের বিশেষ অভিযানে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার কোমরপুর গ্রামের লবঙ্গবতী নদীর তীর সংলগ্ন সীমান্ত এলাকা থেকে আত্মগোপনে থাকা রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদ করিমকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। তার প্রতারণার বিষয়গুলো তদন্তের দায়ভার ডিবিকে দেয়া হলেও পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মামলার তদন্তভার র‌্যাবের হাতে ন্যস্ত করে।

এ জাতীয় আরও সংবাদ

প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী ইমরান স্ত্রীসহ করোনায় আক্রান্ত

todaysylhet24

করোনা আয়ুষ্কাল নিয়ে দেয়া বক্তব্যে ‘দুঃখ প্রকাশ’ স্বাস্থ্য বিভাগের ডিজির

todaysylhet24

রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হতে পারে ‘শিশুবক্তা’ রফিকুলের বিরুদ্ধে

todaysylhet24

Leave a Comment